ট্রাম্পের ‘ভেঙে চুরমার’ করার রাজনীতি এখন বিশ্বমঞ্চে এক ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রাক্কালে মিত্রদের প্রতি আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি যেন সেই কুখ্যাত স্লোগানের মতোই ‘আমি সত্যিই পরোয়া করি না, আপনি করেন কি?’ ১৯৯০-এর উপসাগরীয় যুদ্ধ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের সময়কার সেই কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও জোটবদ্ধতার লেশমাত্র নেই এবারের সংঘাতে। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইসরায়েল তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও কিছু না জানিয়ে এই বিধ্বংসী আক্রমণ শুরু করেছে।
এই চরম সমন্বয়হীনতার একটি বড় উদাহরণ হলো ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘটনা। ট্রাম্পের আদর্শের অনুসারী হয়েও দুবাই সফররত এই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে পর্যন্ত আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। যুদ্ধের ৯ দিন পর আজ পুরো বিশ্ব এক দিশেহারা পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এখন ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেক সরকার এখন এমন এক যুদ্ধের মোকাবিলা করছে যা তাদের নিজের নয় এবং যা তারা কখনোই চায়নি।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে আটকে পড়া তাদের নাগরিকদের উদ্ধারে ব্যস্ত। জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম ভঙ্গুর অর্থনীতিগুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার মিত্র দেশগুলো এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে, যা মরুভূমির বুক চিরে জেগে ওঠা চাকচিক্যময় শহরগুলোর দীর্ঘদিনের শান্তি ও আভিজাত্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থলগুলো, যা বিশ্ববাণিজ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন