
দেশের বাজারে বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দাম আবারও বড় ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এসব ধাতুর দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন এই দাম নির্ধারণ করেছে, যা সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিয়ের মৌসুম এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন থেকে এক লাখ ৪৬ হাজার টাকার ঘর ছাড়িয়ে গেছে। একইভাবে ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণেই তারা এই দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছেন। এর আগে বেশ কয়েকবার দাম কমানো হলেও এবারের লাফটি বেশ বড়।
স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। গয়না তৈরির এই অপরিহার্য ধাতুর দাম ভরিতে প্রায় কয়েকশ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে রুপার গয়নার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং টাকার বিপরীতে ডলারের দাম স্থিতিশীল না থাকলে আগামীতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এর দর। দেশের সাধারণ মানুষ যারা সঞ্চয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণ কেনেন, তাদের জন্য বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা দুঃসংবাদই বয়ে এনেছে। বাজুস জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা নিয়মিত বিরতিতে আবারও দাম পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।